এশিয়ার চালের বাজারে সরবরাহ নিয়ে বেড়েছে উদ্বেগ। ভারতে চালের রফতানি মূল্য আরো বেড়েছে। গত সপ্তাহে দেশটিতে চালের দাম এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। অনাবৃষ্টি ও উৎপাদন কমার আশঙ্কা এর পেছনে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। একই সময়ে পানির সংকট ও এল নিনোর প্রভাবে থাইল্যান্ডেও আগামী মৌসুমে চাল উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস)। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।
ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাতের কারণে গ্রীষ্মকালীন ফসল উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত আগস্টে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং সেপ্টেম্বরেও স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলো ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করছে।
গত সপ্তাহে ভারতে রফতানিযোগ্য চালের ঘাটতি দেখা দেয়। ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চালের দাম প্রতি টন ৩৭১-৩৭৭ ডলারে উঠেছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৬৯-৩৭৫ ডলার। দেশটির ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চালের দাম ছিল ৩৬৮-৩৭৩ ডলার। পাশাপাশি দেশটির ৫ শতাংশ খুদযুক্ত আতপ চালের দাম বেড়ে টনপ্রতি ৩৬৮-৩৭৩ ডলারে উঠে এসেছে। তবে এশিয়ার অন্যান্য রফতানি কেন্দ্রে চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ভিয়েতনামের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম প্রতি টন ৪৪০-৪৪৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে থাইল্যান্ডের চাল উৎপাদন হ্রাসের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) এফএসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, থাইল্যান্ডের চাল উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ২ শতাংশ কমে ২ কোটি ৩ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। এটি আগের মৌসুমের তুলনায় প্রায় চার লাখ টন কম। আগের মৌসুমে উৎপাদন ছিল প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ টন।
জলাধারগুলোয় পানির স্বল্পতা ও এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাবে থাইল্যান্ডে মৌসুমবহির্ভূত চালের চাষ সংকুচিত হচ্ছে। সে কারণে দেশটির এ মৌসুমের চাষের জমি ২০ লাখ ৭ হাজার হেক্টর থেকে কমে ১৯ লাখ ৩ হাজার হেক্টরে দাঁড়াতে পারে। তবে মূল মৌসুমের আবাদি জমি প্রায় ৮৯ লাখ হেক্টরে অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সেখানকার চাও ফ্রায়া নদী অববাহিকার প্রধান চারটি জলাধারে বর্তমানে মোট ক্ষমতার মাত্র ৫৫ শতাংশ পানি রয়েছে। ব্যবহারযোগ্য পানির পরিমাণ মাত্র ৩৯ শতাংশ, যা এক বছর আগের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ কম।
উৎপাদন কমলেও থাইল্যান্ডের চাল রফতানির পরিমাণ ৭৩ লাখ টনে অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। থাই বাথের শক্তিশালী বিনিময় হার এবং ভারত ও ভিয়েতনামের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে রফতানি অপরিবর্তিত থাকবে বলে ধারণা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া সরকারি উদ্যোগে ধান কেনার কর্মসূচির ফলে দেশটিতে চালের সমাপনী মজুদ বেড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৬ লাখ টনে পৌঁছতে পারে।